বর্তমান মেয়র তাঁর জীবনের নিরাপত্তা ও পৌর ভবনের মূল্যবান সম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার ও র‌্যাব কমান্ডারকে চিঠি দিয়েছেন
মেয়র জানান তিনি পৌর নির্বাচনের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা করেননি
বরং আইনি জটিলতা দূর করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন
কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে
পৌর নির্বাচনের তফসিল
নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার ২৬৯টি পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এই নির্বাচন হবে যথাক্রমে ১২ ১৩ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন  নির্বাচন যাতে অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সে ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে
প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে
পৌর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আচরণবিধিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তা প্রশংসনীয়
মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং এর মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করা প্রার্থীর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যই জরুরি
প্রার্থীদের সাত বিষয়ে তথ্য দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যা সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু প্রচারণার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে
যেমন জনসভা না করে ঘরোয়া ও পথসভা করা দুপুর দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মাইকিং করা পোস্টারে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের নাম ও মুদ্রণের তারিখ রাখা এবং প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রকম প্রচার না চালানো ইত্যাদি
পৌরসভা নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারের অসুস্থ প্রবণতা বন্ধে এসব পদক্ষেপ সহায়ক হবে
অনেক সময় প্রার্থীদের উসকানিমূলক বক্তৃতা-বিবৃতিও নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে
আশা করা যায় এবারে প্রচারকালে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা না করে ভোটারদের কাছে নিজ নিজ কর্মসূচি ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন
পৌরসভা নির্বাচনের ব্যাপারে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক পরিচয়ে না হলেও যাঁরা এর প্রার্থী হন তাঁদের বেশির ভাগ কোনো না কোনো দলের নেতা-কর্মী
সে কারণে শেষ পর্যন্ত এটি রাজনৈতিক চরিত্র পায়
অতএব নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও অবাধ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকাও কম নয়
আমরা আশা করব প্রার্থীসহ সব পক্ষ নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলবে
পৌরসভা বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির বিতর্ক টেনে না এনে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতিই মনোযোগী হওয়া উচিত
রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও সততাকেই ভোটারেরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন
সর্বোপরি নির্বাচনের সময় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই
দলীয় সরকারের অধীনেও যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে তারা তা দেখিয়ে দিয়েছে
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলেই আমাদের প্রত্যাশা
আইন প্রয়োগকারীদের ক্ষমতার সীমা বেঁধে দিন
পুলিশের হেফাজতে কিশোরের মৃত্যু
১৬ বছরের কিশোরকে পিটিয়ে মৃত্যুমুখে পাঠানোর অভিযোগ করেছেন তার মা
কিশোরটি পুলিশের হেফাজতে ছিল তাকে তিন দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর রাতেই তার মৃত্যু হয়
গ্রেপ্তার রিমান্ড ও অসুস্থ হয়ে পড়ার পুরো সময়টিতে কিশোরটি পুলিশের হেফাজতেই ছিল
সুতরাং এ মৃত্যুর দায় পুলিশ এড়াতে পারে না
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই ভুলে যান কেউ তাঁদের হেফাজতে থাকা মানে আইনের হেফাজতেই থাকা
সুতরাং তাঁদের হাতে কারও মৃত্যু ঘটা বা মৃত্যুর কারণ ঘটা কেবল হত্যাকাণ্ডই নয় আইনেরও চরম অপব্যবহার
তাই ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর—সাগরের জীবনের শেষ পাঁচ দিনের ঘটনাবলিতে পুলিশের ভূমিকা সন্দেহজনক
পুলিশের দাবি ছিনতাইকারী সন্দেহে ওয়েল্ডিং কারখানার কর্মচারী সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় ২৫ তারিখ রাতে কাজ থেকে ফেরার সময়
মায়ের অভিযোগ পর দিন যাত্রাবাড়ী থানার দুজন এসআই ৫০ হাজার টাকা না দিলে সাগরকে হত্যা মামলার আসামি করার হুমকি দেন
ছিনতাই মামলার আসামি হিসেবে আদালতে সাগরের তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়
আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং রিমান্ড শেষে ২৯ তারিখে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়
সে দিনই অসুস্থ অবস্থায়তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবংপরদিন সন্ধ্যায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়
হাসপাতালে দুই দিন পরিচয়-অজ্ঞাত হিসেবে সাগরের লাশ পড়ে থাকলেও যাত্রাবাড়ী থানা বিষয়টি তার পরিবারের কাছে গোপন রাখে
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিকে নির্যাতন বেআইনি
দ্বিতীয়ত মৃত্যুর বিষয়টি চেপে যাওয়া হলো কেন তৃতীয়ত ছিঁচকে অপরাধজাতীয় সোর্সের ওপর ভরসা করে কাউকে নির্যাতন করা কেমন ধারার তদন্ত চতুর্থত অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ অপরাধী যদি হয়ও তার প্রতি পুলিশের আচরণ ভিন্ন হওয়া উচিত ছিল কি না পঞ্চমত অপ্রাপ্তবয়স্ককে কীভাবে আদালত রিমান্ডে পাঠালেন
শ্রমজীবীদের জীবনকে পুলিশ কেমন তুচ্ছ ভাবে এ ঘটনা তার প্রমাণ
প্রতিবছর পুলিশি হেফাজতে এ রকম অনেক মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে আসে
এসব অপমৃত্যুর বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নির্বিকার
আশা করি সাগরের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে
রিমান্ডে নেওয়ার বেলায়আরও সতর্কতাও জরুরি
আইন প্রয়োগকারীদের ক্ষমতার সীমাও তাই বেঁধে দেওয়া মানবাধিকারের স্বার্থেই প্রয়োজন
যুক্তি তর্ক গল্প
আগ্নেয়গিরির ওপরে পিকনিক
বড় দুই দলের টানাপোড়েনে দেশের রাজনীতি যে মসৃণভাবে চলবে এমনটা কেউ সম্ভবত ভাবে না
মানুষ ভয় পায় অচলাবস্থাকে বেশি পায় দুই দলের সংঘাতকে
তবে এই সংঘাত যা সময় সময় অচলাবস্থা তৈরি করে তা নিছক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভাবলে ভুল হবে
এ সংঘাতের পেছনে ইতিহাস এবং আদর্শও কাজ করে
আর সে কারণেই সরাসরি ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত না হয়েও সমাজের অনেক মানুষ বড় দুই দলের দ্বন্দ্বে পক্ষভুক্ত হয়ে পড়েন
এভাবে আদর্শ ও ইতিহাসের দায় স্বীকার করে সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেশাজীবী সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে
তাতে মাঠে রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তাপ ও বাস্তবতা না থাকলেও দ্বন্দ্বের আগুন ছাইয়ের নিচে ঠিকই টিকে থাকে
যেকোনো উপলক্ষে এ আগুন দাউ করে জ্বলে উঠতে পারে
এদিক থেকে বলা যায় যে দলই ক্ষমতায় থাক তারা কিন্তু ছাইচাপা আগুনের ওপরই বসছে ভাব দিয়ে যাকে বলা যায়—আগ্নেয়গিরির ওপরে পিকনিক
এখন প্রশ্নটা হবে দেশের সচেতন মানুষ আদর্শিক দ্বন্দ্বটি কি নিরসন করবে না এই দ্বন্দ্ব সাম্প্রতিক নয় ঐতিহাসিক
কালে কালে যেসব ডালপালা ছড়িয়েছে সেগুলো ছেঁটেকেটে দ্বন্দ্বের মূলে গেলে যা স্পষ্ট হয় তা হলো—ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ বনাম ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদ
পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল প্রথম ভাবাদর্শের ভিত্তিতে আর তাকে নাকচ করেই শেষের ভাবাদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি
পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশের যে রাজনীতি প্রায় পাকিস্তান সৃষ্টির পরপর ১৯৪৮ সালেই শুরু হয়েছিল শেষ পর্যন্ত তার নেতৃত্ব চলে আসে আওয়ামী লীগের হাতে
দেশের প্রধান বাম প্রগতিশীল দলগুলোও এ রাজনীতির ধারক এমনকি প্রবর্তক হলেও নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল বাঙালি বুর্জোয়া ও মধ্যবিত্তের দল আওয়ামী লীগের হাতে
পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি প্রথমে এককভাবে মুসলিম লীগের হাতে ছিল এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে তখন অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলও এককাট্টা হয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নেয় এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধতা করে
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই বিজয় হয়েছে
ফলে পাকিস্তানবাদী পক্ষ বাংলাদেশের দৃষ্টিতে নানা মাত্রায় যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল
রাষ্ট্র সৃষ্টি যতটা সহজ সমাজের উত্তরণ বা সমাজমানসের পরিবর্তন তত সহজ নয়
যুদ্ধ করে—বিশেষত ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় দেশ স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে
কিন্তু তাতে নিজস্ব নাম পতাকা জাতীয় সংগীতসহ কাগুজে পরিবর্তনগুলো ঘটানো যত সহজ ছিল মনের গভীরের ভয় বিশ্বাস ও অন্য বিবেচনাগুলো বাদ দেওয়া ততোধিক কঠিন
পাকিস্তানি সামরিক শক্তির অত্যাচার এমন মাত্রাছাড়া পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে একাত্তরে অল্প কিছু চিহ্নিত পাকিস্তানপন্থী মানুষ ছাড়া বাকি সবাই এই অমানবিক নৃশংসতার বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছিল
অর্থাৎ স্বেচ্ছায় যত মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে ছিল তত বা তার বেশি মানুষ পরিস্থিতির চাপে পড়ে বাংলাদেশের পক্ষে এসেছিল
সেটা বোঝা যায় পঁচাত্তরের আগেই যখন ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ ভিড়লে বিপুল মানুষের মধ্যে সেটা দেখা এমনকি ছোঁয়ার জন্য উদ্বেলতা দেখে
আসলে পাকিস্তান ধ্বংস হলেও সে রাজনীতির ছড়িয়ে দেওয়া বীজের তখনো যেমন এখনো তেমনি উৎপাদনী শক্তি বহাল রয়েছে
বীজ আদতে দুটো—মুসলিম-হিন্দু বৈরিতা তথা সাম্প্রদায়িকতার এবং ভারতবিরোধিতার বীজ
দুটো বীজই গোড়ায় এক—দ্বিজাতিতত্ত্বই এর মূল
জিন্নাহ ব্যর্থ হয়ে মারা গেছেন পাকিস্তান ভেঙে গেছে মুসলিম লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কিন্তু তত্ত্ব বা আদর্শটি টিকে আছে
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্বটা এই প্রেক্ষাপটে দেখলে সমাজের শিক্ষিত মানুষেরও এতে জড়িয়ে পড়ার রহস্যটা হয়তো বোঝা যাবে
কিন্তু সেখানেও কিছু কথা উঠবে
১৯৯০-এর পর থেকে দুই দশকের গণতন্ত্রচর্চায় এ দুটি দলই পালা করে ক্ষমতায় গেছে সংসদে মূল বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েছে
এদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং রাজনীতিকে জড়িয়ে সৃষ্ট দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতির কারণে সমাজের নতুন প্রজন্ম তো বটেই পুরোনোদেরও বড় একটা অংশ হয়ে পড়েছে রাজনীতিবিমুখ
তারা যখন দেখে ক্ষমতায় গিয়ে দুটো দলই স্ব স্ব দলীয় বা সমদর্শী চিন্তার মানুষদের সুবিধা দিচ্ছে প্রশাসন থেকে বিচারক নিয়োগ পর্যন্ত দলীয়করণের চেষ্টা করছে বিরোধী দলকে কোনোরূপ ছাড় দিচ্ছে না এবং ফলাফল হিসেবে দুর্নীতি রোধ বা সুশাসনে ব্যর্থ হচ্ছে তখন প্রথমত একই মাত্রায় হতাশ হয় তারা এবং দ্বিতীয়ত দুটি দলকেই একইভাবে সমালোচনা করে
ভাবে দল দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
ক্ষমতায় গেলে সংসদ ও শাসনে বিরোধী দলের প্রতি আচরণে দলীয় ক্যাডার ও নেতা-কর্মীদের প্রতি পক্ষপাতে যেমন পার্থক্য থাকে না তেমনি ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী দলে গেলে সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগিতা থেকে সরকার পতনের ফিকির খোঁজা ও ভূমিকা নেওয়ায়ও কোনো ফারাক থাকে না
ফলে মানুষ দুটি দলকে এক করে দেখলে বা দেখার ভুলটা করলে তাদের খুব দোষ দেওয়া যাবে না
সমস্যাটা দুইভাবে জট পাকিয়েছে
প্রথমত জিয়া-এরশাদের সময় থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের ভেতরে পাকিস্তানপন্থী একটা শক্তিশালী গ্রুপ তৈরি হয়ে যায়
তারা সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি পুনর্বাসিত ও পুনরুজ্জীবিত করেছে
বিপরীত রাজনীতিকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য ছল ও বলের আশ্রয় নেওয়ায় উভয় পক্ষেই রাজনীতিতে ছল ও বল ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে
রাজনীতি কালো টাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর হয়ে পড়ল
আওয়ামী লীগ বলবে অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমাদেরও এই পথে পা বাড়াতে হয়েছে
একইভাবে যখন বোঝা গেল রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যেমন তেমনি সমাজের ভেতরেও রয়েছে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের শক্তিশালী বীজ তখন আওয়ামী লীগ তার সঙ্গেও আপস করে নিল
তখন আদর্শবাদী ধর্মনিরপেক্ষ সৎ ব্যক্তি বলতেই পারেন যে আওয়ামী লীগকে দিয়ে কীভাবে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র করা সম্ভব বিএনপিকে দিয়ে যেমন হবে না আওয়ামী লীগকে দিয়েও হবে না
সরলভাবে এ রকম একটি চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব
কিন্তু বিষয়টা এখানেই শেষ হয়ে যায় না
আদতে আওয়ামী লীগ তার ৬০ বছরের ইতিহাসে একটি সত্য প্রমাণ করেছে—তার টিকে থাকার শক্তি প্রায় সহজাত
ইতিহাসে আমরা দেখি বাংলা থেকে উদ্ভূত কোনো দলই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি
